ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

টোকিওতে বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপানের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

দলমত–নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেসব সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের একেবারে প্রান্তিক মানুষ উপকৃত হবেন, সেগুলো বাস্তবায়নে বিএনপি যাতে সফল না হয়, সে জন্য একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে সবার আন্তরিক সহযোগিতা, ধৈর্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বুধবার জাপানের টোকিওতে নিউ ওয়াজনি হোটেলে বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপানের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ দলমত–নির্বিশেষে সবার কাছে আমি একটা কথা বলব—আপনাদের মন থেকে সহযোগিতা যদি থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের এই বাংলাদেশকে, আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। তবে এ জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং একসঙ্গে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে জাপান বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করেছে। ভবিষ্যতে কীভাবে জাপান আরও নতুনভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে দেশটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

প্রবাসীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নিয়ে আসতে সবাইকে কোমর বেঁধে প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশে বিনিয়োগ হলে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা একসময় দেশের সম্পদে পরিণত হবে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতেও ধীরে ধীরে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। প্রবাসীদের কেউ শিক্ষকতা করছেন, কেউ অন্য পেশায় নিয়োজিত, আবার অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

প্রবাসীদের দেশের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িত। দেশটির ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করছেন। তাই বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য কী কী সুবিধা তৈরি করা হয়েছে, তা জাপানের ব্যবসায়ী মহলের কাছে তুলে ধরতে পারেন প্রবাসীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দেশের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরতে পারেন তাঁরা। এতে সরকার ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হবে।

তারেক রহমান বলেন, আট মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের সময় বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছিল। প্রশাসনের অবস্থাও ছিল নাজুক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। এ ছাড়া দেশে আরও নানা ধরনের সমস্যা ছিল, যার কিছু এখনো রয়েছে। এসব সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেই সরকারকে সামনে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের উপযোগী করে ট্রাফিক আইন নিয়ে একটি বই তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানতে পারে। অর্থাৎ সরকার বিস্তারিত ও বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার চেষ্টা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দলমত–নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেসব সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের একেবারে প্রান্তিক মানুষ উপকৃত হবেন, সেগুলো বাস্তবায়নে বিএনপি যাতে সফল না হয়, সে জন্য একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে সবার আন্তরিক সহযোগিতা, ধৈর্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বুধবার জাপানের টোকিওতে নিউ ওয়াজনি হোটেলে বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপানের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ দলমত–নির্বিশেষে সবার কাছে আমি একটা কথা বলব—আপনাদের মন থেকে সহযোগিতা যদি থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের এই বাংলাদেশকে, আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। তবে এ জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং একসঙ্গে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে জাপান বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করেছে। ভবিষ্যতে কীভাবে জাপান আরও নতুনভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে দেশটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

প্রবাসীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নিয়ে আসতে সবাইকে কোমর বেঁধে প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশে বিনিয়োগ হলে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা একসময় দেশের সম্পদে পরিণত হবে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতেও ধীরে ধীরে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। প্রবাসীদের কেউ শিক্ষকতা করছেন, কেউ অন্য পেশায় নিয়োজিত, আবার অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

প্রবাসীদের দেশের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িত। দেশটির ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করছেন। তাই বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য কী কী সুবিধা তৈরি করা হয়েছে, তা জাপানের ব্যবসায়ী মহলের কাছে তুলে ধরতে পারেন প্রবাসীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দেশের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরতে পারেন তাঁরা। এতে সরকার ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হবে।

তারেক রহমান বলেন, আট মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের সময় বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছিল। প্রশাসনের অবস্থাও ছিল নাজুক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। এ ছাড়া দেশে আরও নানা ধরনের সমস্যা ছিল, যার কিছু এখনো রয়েছে। এসব সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেই সরকারকে সামনে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের উপযোগী করে ট্রাফিক আইন নিয়ে একটি বই তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানতে পারে। অর্থাৎ সরকার বিস্তারিত ও বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার চেষ্টা করছে।