অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৭:০৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৯ বার পড়া হয়েছে
গ্রেপ্তার হয়েছেন সংগীতশিল্পী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ছবি: সংগৃহীত
ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রির মাধ্যমে ৬০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বের হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কলকাতা পুলিশ সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বউবাজার থানায় দায়ের করা একটি মামলায় লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রি করেছিল। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন বছরে এক লাখের বেশি প্রিভিউ কার্ড ও ডোনার কার্ড বিক্রি করে সংস্থাটি প্রায় ৬০ কোটি রুপি সংগ্রহ করে বলে অভিযোগ। তবে ওই অর্থ কোনো পূজা কমিটির হিসাবে কিংবা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ জুন ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পূজামণ্ডপের প্রিভিউ শোর জন্য চার হাজার রুপি বা তার বেশি মূল্যে টিকিট বিক্রি করেছিল। এ ছাড়া নিজেদের ইউনেস্কের আনুষ্ঠানিক অংশীদার পরিচয় দিয়ে সংস্থাটি বেআইনিভাবে সংস্থাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করেছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি কলকাতার বউবাজার থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।
পরে ওই মামলার সূত্র ধরে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) অনুযায়ী পৃথক তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্দ্রনীল সেনের একাধিক বাড়ি ও বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার ইডির সমন পেয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন ইন্দ্রনীল সেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বের হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।
গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় ইন্দ্রনীল সেন কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে সেখান থেকে তিনি স্বস্তি পাননি। আগামী ২ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এর আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো।
তবে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা আর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।














