ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমি কোনো অন্যায় করিনি’, সদস্যপদ স্থগিতের পর তানজিন তিশা

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

শুটিং সেটে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে ঘটে যাওয়া বিরোধের জেরে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়েছে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিশা। কথা বলেছেন ঘটনার সূত্রপাত, সমঝোতার উদ্যোগ এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে।

আজ (৭ নভেম্বর) ফেসবুক লাইভে তিশা জানান, শুটিং সেটের ঘটনাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্য শুরু থেকেই একই রয়েছে। তার দাবি, নাটকের একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের সময় ঘটনাটি ঘটে। সেদিন সেটে উপস্থিত ব্যক্তিরা পুরো পরিস্থিতি দেখেছেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, দৃশ্যধারণের সময় কে আগে নির্ধারিত অভিনয়ের বাইরে গিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং কীভাবে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে সামিয়া অথৈর আনা মারধরের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মেটাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত ৭ জুলাই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো পক্ষের কাছ থেকেই জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

পরবর্তী সময়ে বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৪ অক্টোবর পৃথক চিঠির মাধ্যমে দুই অভিনেত্রীকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সিদ্ধান্তটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রাখার কথা জানিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ।

এ বিষয়ে লাইভে তিশা বলেন, বিরোধ মীমাংসার জন্য আয়োজিত বৈঠকে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। একপর্যায়ে উভয় অভিনেত্রীকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও বার্তা পাঠানোর কথা বলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, সামিয়া অথৈ ভিডিও বার্তা পাঠাননি। ব্যক্তিগত কিছু কারণে তিনিও তা পাঠাতে পারেননি। সংগঠনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

লাইভে পেশাগত বিরোধের সমাধান নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিশা। তার মতে, সহশিল্পীদের মধ্যে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তুলে কাউকে হেয় করা কিংবা তার পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা সমর্থনযোগ্য নয়।

এ সময় গত কয়েক মাসে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। আলোচিত ‘শাড়ি-কাণ্ড’ প্রসঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

‘আমি কোনো অন্যায় করিনি’, সদস্যপদ স্থগিতের পর তানজিন তিশা

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

শুটিং সেটে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে ঘটে যাওয়া বিরোধের জেরে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়েছে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিশা। কথা বলেছেন ঘটনার সূত্রপাত, সমঝোতার উদ্যোগ এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে।

আজ (৭ নভেম্বর) ফেসবুক লাইভে তিশা জানান, শুটিং সেটের ঘটনাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্য শুরু থেকেই একই রয়েছে। তার দাবি, নাটকের একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের সময় ঘটনাটি ঘটে। সেদিন সেটে উপস্থিত ব্যক্তিরা পুরো পরিস্থিতি দেখেছেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, দৃশ্যধারণের সময় কে আগে নির্ধারিত অভিনয়ের বাইরে গিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং কীভাবে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে সামিয়া অথৈর আনা মারধরের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মেটাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত ৭ জুলাই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো পক্ষের কাছ থেকেই জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

পরবর্তী সময়ে বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৪ অক্টোবর পৃথক চিঠির মাধ্যমে দুই অভিনেত্রীকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সিদ্ধান্তটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রাখার কথা জানিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ।

এ বিষয়ে লাইভে তিশা বলেন, বিরোধ মীমাংসার জন্য আয়োজিত বৈঠকে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। একপর্যায়ে উভয় অভিনেত্রীকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও বার্তা পাঠানোর কথা বলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, সামিয়া অথৈ ভিডিও বার্তা পাঠাননি। ব্যক্তিগত কিছু কারণে তিনিও তা পাঠাতে পারেননি। সংগঠনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

লাইভে পেশাগত বিরোধের সমাধান নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিশা। তার মতে, সহশিল্পীদের মধ্যে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তুলে কাউকে হেয় করা কিংবা তার পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা সমর্থনযোগ্য নয়।

এ সময় গত কয়েক মাসে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। আলোচিত ‘শাড়ি-কাণ্ড’ প্রসঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।