ব্রেকিং

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সুদ কারবারী মোস্তফা কামালের কাছে সংখ্যালঘু পরিবার জম্মি

| শনিবার, ১৮ মে ২০১৯

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সুদ কারবারী মোস্তফা কামালের কাছে  সংখ্যালঘু পরিবার জম্মি

বিকাশ ঘোষ,বীরগঞ্জ, দিনাজপুর প্রতিনিধি॥ জমি উদ্ধার ও নিরাপত্তা পেতে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সহ মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা প্রয়োজন দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ১১নং মরিচা ইউনিয়নের বড় ভগির পাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের সুদ কারবারী ছেলে মোঃ মোস্তফা কামাল (৪০) পার্শ্ববর্ত নাগরি-সাগরি গ্রামের এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের মৃত ক্ষিতিশ চন্দ্র রায়ের বড় ছেলে গৌরচরণ রায়ের (৫৫) নিকট থেকে নিম্নে বর্ণিত তফসিলের জমি-জমা মাত্র এক লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধকে কেন্দ্র করে বে-আইনীভাবে তঞ্চকতা, প্রতারণা ও যোগসাজশে ভাবে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে সাহজ ও জ্ঞানশূন্য বানিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের নাগরগঞ্জ বাজারের বাণিজ্যিক এলাকার সাড়ে পঞ্চান্ন শতক জমি মাত্র ৪ লক্ষ টাকা মূল্যে বীরগঞ্জ উপজেলার সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্টি করে নিয়ে তাকে পথে নামিয়েছেন। তাকে নিঃস্ব করে পথে নামিয়েছেন এবং উক্ত গৌরচরণের একমাত্র ছোট ভাই শচীন্দ্রনাথ রায়েরও (৫০) অংশ বিশেষ হিন্দু শাসিত দায়ভাগমতে তাতে বিদ্যামান আছে মর্মে খবর পাওয়া গেছে। যার কবলা দলিল নং ৭৫৬/১৯। শুধু তাই নয়, উক্ত মোস্তফা কামাল কবলা দাতা, গৌরচরণের কাছে নাকি উল্লেখিত অসৎ কৌশল অবলম্বন করে ফাঁকা ষ্ট্যাম্পেও তার স্বার্থ চরিতার্থের জন্য স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছে। যা ক্ষতির সামিল। তথ্য সূত্রে মতে জানা গেছে পরবর্তীতে জমি রেজিষ্ট্রি খবর পেয়ে উক্ত শচীন্দ্রনাথ রায় জাবেদা নকল তুলে নিজে বাদী হয়ে জমিজমা উদ্ধারের নিমিত্তে ঘোষণামূলক ডিক্রি পাওয়ার জন্য জমির বিক্রিত মূল্য ৪ লক্ষ টাকা ফেরতে “জেলা দিনাজপুর বিজ্ঞ সদর সিনিয়র সহকারী জজ” আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। যার নং-৩১/১৯। জমি উদ্ধারের মামলায় বাদী শচীন্দ্রনাথ প্রার্থিত বিষয় নিম্নে উল্লেখ করেছেন কবলা গ্রহীতা এবং কবলা দাতার বিরুদ্ধে। মূলতঃ ভাই হিসাবে উক্ত জমির কবলা গ্রহীতাও শচীন্দ্রনাথই একমাত্র দাবিদার। ১। অত্র মোকদ্দমার (ক) তফসিল বর্ণিত দলিল (খ) তফসিলভুক্ত সম্পত্তি বিরোধীয় ও বিচার্য বিষয় হচ্ছে। ২। নালিশি সম্পত্তিসহ অন্যান্য সম্পত্তির সিএস-৪১২, এসএ-৪৫৮নং খতিয়ানভূক্ত রেকর্ড মূলে মূলধনী ছিলেন ভূক্ত ১১৫৩নং দাগে ২১.৫ শতক সম্পত্তি বিক্রয় করিয়া দেয়। ৩। বাদী তার অংশের ০.৪৪ একর এবং ২নং বিবাদীর সহিত বিনিময় প্রাপ্ত ২৯.৫ শতক মোট ০.৭৫ একর প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করা কালীন নালিশী দাগের রাস্তার ধারে ৫টি দোকান ঘর ও কিছু অংশের সম্পত্তিতে চাতাল তৈরি করে। অবশিষ্ট জমি চাষাবাদে অদ্যাবধি শান্তিপূর্নভাবে ভোগদখলে আছেন। বাদীর এক কোটি টাকা মূল্যের নিম্নে (খ) তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির ২নং বিবাদী গোপনে খারিজ করিয়া ১নং বিবাদীর বরাবরে ৩১/০১/২০১৯ইং তারিখে ৭৫৬নং কবলা দলিল মূলে বীরগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে বে-আইনীভাবে রেজিষ্ট্রি করিয়া দিয়ে ১নং বিবাদীর নিকট হইতে এক লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন। যাহা নালিশি (ক) তফসিল বর্ণিত তর্কিত দলিলে উল্লেখ আছে। ২নং বিবাদীর ৮। নালিশী দাগের (ক) তফসিল বর্ণিত তর্কিত দলিলে (খ) তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি গত ৩১/০১/২০১৯ইং তারিখে হস্তান্তরের অধিকার ছিল না এবং বর্তমানেও নেই। যাহা আজ প্রায় একবছর পূর্বে নালিশী দাগের ২৯.৫ শতক সম্পত্তি বাদীর বরাবরে দখল স্বত্ব ত্যাগ করে নালিশী দাগের দখল ও স্বত্ব শূন্য হয়। ৯। নালিশী দাগের সম্পত্তির সংলগ্ন নাগরঞ্জ বাজারে গত ১১/০২/২০১৯ইং তারিখে বিকাল অনুমান ৪.০০ ঘটিকার সময় ১নং বিবাদী বাদীকে জানায় যে, নালিশী (খ) তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি এক লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ বাবদে ১নং বিবাদীর নিকট ২নং বিবাদী রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। বাদী ১নং বিবাদীরে কথা শুনে গত ১৩/০২/২০১৯ইং তারিখে বীরগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে অনুসন্ধান করে নালিশী (ক) তফসিল বর্ণিত দলিলের জাবেদা নকল তুলিয়া নিশ্চিত হন যে, ২নং বিবাদী বেআইনীভাবে নালিশী (ক) তফসিল বর্ণিত দলিলমূলে নালিশী (খ) তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি এক লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধের বিপরীতে ১নং বিবাদীর বরাবরে রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। গত ১৩/০২/২০১৯ ইং তারিখে নালিশী (ক) তফসিল বর্ণিত দলিলটি তুলিয়া লইবার পর হইতে প্রতি মুহুর্তে অত্র জনৈক শফিকুল হক, পিতা- মৃত মোঃ হালিম, গ্রাম- নাগরি সাগরি, থানা- বীরগঞ্জ, জেলা- দিনাজপুর। তিনি নালিশী সম্পত্তি গত ২৭/০৭/১৯৭৪ইং তারিখে ১৫৪৩৭ গত ১২/১১/১৯৭৯ইং তারিখে ৫৪৪৯নং খোষ কবলা দলিলমূলে জনৈক মোঃ ইসরাইল ওরফে হাচু এর নিকট বিক্রয় করে দখল স্বত্ব হস্তান্তর করেন। ৩। নালিশী সম্পত্তির গ্রহীতা মোঃ ইসরাইল ওরফে হাচু তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভোগদখল করাকালীন বিক্রয়ের প্রস্তাব করিলে বাদী ও ২নং বিবাদীর পিতার নির্দেশে গত ০৫/০২/১৯৯০ইং তারিখ ২৯০৫নং খোষ কবলা দলিল মূলে ০.৩৯একর সম্পত্তি বাদী ও ২নং বিবাদীর নামে রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইসরাইল ওরফে হাচু পুনরায় ০.৫০ একর সম্পত্তি বিক্রয় করার প্রস্তাব করিলে উক্ত ০.৫০ একর সম্পত্তিও বাদী ও ২নং বিবাদী পৈত্রিক সম্পত্তি হইতে অর্জিত অর্থে ক্রয় করার সম্মতি জ্ঞাপন করিলে ২নং বিবাদী পরিবারের কর্তা হিসাবে রেজিষ্ট্রি অফিসে যাইয়া তার একক নামে গত ০৭/০১/১৯৯১ইং তারিখে ২৫৯নং খোষ কবলা দলিলমূলে রেজিষ্ট্রি করিয়া নেয়। ০.৩৯+০.৫০ একর = মোট ০.৮৯ একর সম্পত্তি ভোগদখল করা কালীন বাদী ও ২নং বিবাদীর পিতা মারা যান। ৪। বাদী ও ২নং বিবাদীর বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের বাবার ত্যক্ত পৈত্রিক সম্পত্তি সহ নালিশী (গ) তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির হিন্দু শাসিত দায়ভাগ মতে (গ) তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির মধ্যে বাদীর অংশে ৪৪.৫ শতক ২নং বিবাদীর অংশের ৪৪.৫ শতক সম্পত্তি সম অংশে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করা কালীন ২নং বিবাদী ২নং বিবাদী তার অংশের ০.১৫ একর সম্পত্তি জনৈক ১। মোঃ বাচ্চু মিয়া ২। মোঃ খলিল উদ্দীন ৩। ইয়াকুব আলী, ৪। অপর এক বৃদ্ধা মহিলার বরাবরে বিক্রয় করে দখল প্রদান করেন। ৫। নালিশী দাগের বাদীর অংশে ৪৪.৫ শতক এবং ২নং বিবাদীর অংশের বিক্রিত সম্পত্তি বাদে অবশিষ্ট ২৯.৫ শতক মোট ০.৭৫ একর সম্পত্তি বাদী ২নং বিবাদীর যৌথ নামে চলিত জরিপে ৩৫৪নং ডিপি খতিয়ানে ৪৩৫২ ও ৪৩৫৪ নম্বর নতুন বিএস দাগ নম্বরে পরিশুদ্ধভাবে লিপিবদ্ধ হইয়া প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। ৬। ২নং বিবাদী নালিশী দাগের তার অংশ ২৯.৫ শতক সম্পত্তি বাদীর নামীয় অংশের অনালিশী নাগরি সাগরি মৌজার ৪২নং খতিয়ান ভ’ক্ত ১১৫৩ নং দাগের ২১.৫ শতক সম্পত্তি ২নং বিবাদী বাদীর সহিত ২নং বিবাদীর সুবিধার্থে মৌখিক ভাবে বিনিময় করিয়া জনৈক মোঃ মোসলেম উদ্দিন এর বরাবরে ২নং বিবাদী বিনিময় প্রাপ্ত নাগরি সাগরি মৌজার ৪২নং খতিয়ান মোকদ্দমার নালিশের কারণ উদ্ভব হইতেছে। সে কারণে বাদী নি¤œ (ক) তফসিল বর্ণিত দলিলটি বেদাড়া, তঞ্চকতামূলক, বানোয়াট, যোগসাজসী অবধারণে অকার্যকরী ও বেআইনী মর্মে ঘোষণামূলক ডিক্রি এবং নালিশী (খ) তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি বাদীর অনুকূলে স্বত্বের ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রচারে ২টি প্রার্থনায় অত্র মোকদ্দমা হুজুর আদালতে আনয়ন করিলেন। ১০। নালিশী (ক) তফসিল বর্ণিত তর্কিত দলিলে চার লক্ষ টাকা মূল্য উল্লেখ থাকায় উক্ত টাকা অত্র মোকদ্দমার মূল্যায়ন নির্ধারন করা হইল এবং উহার উপর অত্র মোকদ্দমার ২টি প্রার্থনায় আইনানুগ কোর্ট ফিস প্রদান করা হয়। ১১। অতএব, বাদী পক্ষের প্রার্থনা যে, ক) নালিশী (ক) তফসিল বর্ণিত তর্কিত দলিলটি বেদাড়া, তঞ্চকতামূলক, বানোয়াট, যোগসাজসী অকার্যকরী, ভয়েড অবধারণে বেআইনী মর্মে ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রচার করিতে আজ্ঞা হয়; (খ) তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি বাদীর অনুকুলে স্বত্বের ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রচার করিতে আজ্ঞা হয়; গ) বিজ্ঞ আদালতের আদেশের কপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে ৩নং বিবাদীর মাধ্যমে সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, বীরগঞ্জ, দিনাজপুরে প্রেরণ করিতে হুজুর আদালতের আজ্ঞা হয়; ঘ) আদালত ব্যয় বাদীর অনুকুলে ১/২নং বিবাদীদ্বয়ের প্রতিকুলে/বিরুদ্ধে ডিক্রি দিতে আজ্ঞা হয়; ঙ) হুজুর আদালতের ন্যায়বিচারে বাদী আর যে, প্রতিকার পাইতে হকদার, তার ডিক্রি দিতে আজ্ঞা হয়। (ক) তফসিল দাতা হিসাবে ২নং বিবাদী গৌরচরণ রায় গ্রহীতা হিসাবে ১নং বিবাদী গৌরচরণ রায়, গ্রহীতা হিসাবে ১নং বিবাদী মোঃ মোস্তফা কামাল, দলিল নং ৭৫৬, তারিখ- ৩১/০১/২০১৯ইং বীরগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, দিনাজপুর। (খ) তফসিল জেলা- দিনাজপুর, থানা- বীরগঞ্জ, মৌজা- নাগরি সাগরি, জেলএল নং-১১২। খতিয়ান নং- ৪১২, সিএস, ৪৫৮ এস,এ দাগ নং-৩৮১৭, রকম-ডাঙ্গা (বাণিজ্যিক), পরিমাণ- ৫৫.৫ শতক (গ) তফসিল জেলা- দিনাজপুর, থানা- বীরগঞ্জ, মৌজা- নাগরি সাগরি, জেলএল নং-১১২। খতিয়ান নং-৪১২ সিএস, ৪৫৮ এস,এ, দাগ নং-৩৮১৭, রকম ডাঙ্গা (বাণিজ্যিক, পরিমাণ-০.৭৫ একর। প্রকাশ যে, স্বীয় জমি উদ্ধারে মামলা রুজু করার পর বাদী শচীন্দ্রনাথ রায় এবং তার পরিবারের সবাই আতঙ্কে রয়েছে এবং মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোন মুহুর্তে উক্ত কবলা গ্রহীতা সুদ কারবারী মোস্তফা কামাল শচীন্দ্রনাথ রায় গংদের অপুরণীয় ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে পারে বলে বিশ্বাস। এজন্য শচীন্দ্রনাথ রায় জমিজমা উদ্ধার এবং জানমালের নিরাপত্তা পেতে আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষসহ সর্বমহলের সুদৃষ্টি ও আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছি। উপরে উল্লেখিত বিষয় নিয়ে আমাদের সংবাদদাতা বীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ শাকিলা পারভীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

Comments

comments

আপনার পছন্দের এলাকার খবর জানতে...

আর্কাইভ